৫ জেলার অবৈধ ইটভাটার স্থাপনা-নির্মাণসামগ্রী ধ্বংস করতে নির্দেশ

৫ জেলার অবৈধ ইটভাটার স্থাপনা-নির্মাণসামগ্রী ধ্বংস করতে নির্দেশ

নিউজ ডেস্ক: কোনো ধরনের বিলম্ব ছাড়াই ঢাকাসহ পাঁচ জেলায় থাকা অবৈধ ইটভাটার সব ধরনের স্থাপনাসহ নির্মাণসামগ্রী ধ্বংস করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতি এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্পূরক এক আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

কোনো ধরনের ব্যর্থতা ছাড়াই আদালতের আদেশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলেছেন উচ্চ আদালত।

একই সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসকদের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়ে দ্রুত আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ৫ এপ্রিল তারিখ রেখেছেন আদালত।

পাঁচ জেলা হচ্ছে ঢাকা, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ। আর পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলাগুলোয় অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা ৩১৯।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আমাতুল করীম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নাসিম ইসলাম।

ঢাকায় দূষণের মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে ও অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা নিয়ে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন সংযুক্ত করে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে গত ৩০ জানুয়ারি সম্পূরক আবেদনটি করা হয়।

আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের একই বেঞ্চ ওই পাঁচ জেলায় থাকা অবৈধ ইটভাটার তালিকা দাখিল করতে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ১৬ ফেব্রুয়ারি ভার্চ্যুয়ালি আদালতে যুক্ত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

ধার্য তারিখে আদালত পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও জেলা প্রশাসকদের বক্তব্য শোনেন। আর অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৈধ-অবৈধ ইটভাটার তালিকা দাখিল করা হয়। শুনানি নিয়ে আজ আদেশ দিলেন আদালত।

‘ঢাকার বাতাসে নতুন বিপদ’ শিরোনামে ২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম আলোয় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি যুক্ত করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে একই বছরের ২৭ জানুয়ারি এইচআরপিবির পক্ষে একটি রিট করা হয়।

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর রাস্তাসহ নির্মাণাধীন জায়গা ঘিরে দেওয়া, ধুলামাখা স্থানে দুবেলা পানি ছিটানো ও দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে বলা হয়। রিটের ধারাবাহিকতায় সম্পূরক আবেদনটি করে এইচআরপিবি।