বুস্টার ডোজ দিবস আজ

বুস্টার ডোজ দিবস আজ

নিউজ ডেস্ক: করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশব্যাপী বুস্টার ডোজ দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে একদিনে ৭৫ লাখ মানুষকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় (বুস্টার) ডোজ দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এই ক্যাম্পেনের মাধ্যমে বুস্টার ডোজের কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশে করোনা সংক্রমণের উর্ধগতি হচ্ছে। আবার তুলনামূলক বুস্টার (তৃতীয়) ডোজ কাভারেজও কম হয়েছে। সেই বিবেচনায় সরকার আগামী ১৯ জুলাই দেশব্যাপী এই বুস্টার ডোজ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, পাঁচ বছর থেকে এগারো বছরের শিশুদের করোনার টিকা কার্যক্রম শুরু হবে।

ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।  সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে চলমান ভ্যাকসিন কার্যক্রমসহ অন্যান্য সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, এই ক্যাম্পেন চলাকালে দেশের সব সরকারী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ইত্যাদির পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলাগুলোর ওয়ার্ড পর্যায়েও কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন দেয়া হবে। ভ্যাকসিন দেয়ার লক্ষ্যে সারাদেশে প্রায় ১৬.১৮১টি টিকা কেন্দ্রের (৬২৩টি স্থায়ী ও ১৫ হাজার ৫৫৮টি অস্থায়ী কেন্দ্র) ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জাহিদ মালেক বলেন, ক্যাম্পেনে একযোগে প্রায় ৩৩ হাজার ২৪৬ জন টিকাদান কর্মী ও ৪৯ হাজার ৮৬৯ জন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করবেন। ক্যাম্পেনে দ্বিতীয় ডোজ পাওয়ার ৪ মাস অতিবাহিত হয়েছে এমন ১৮ বছর ও তদুর্ধ জনগোষ্ঠী বুস্টার (তৃতীয়)  ডোজ ও প্রথম ডোজ পাওয়ার নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও যারা দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেননি এমন ১৮ বছর ও তদুর্ধ জনগোষ্ঠী দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করতে পারবেন।

এ সময় শিশুদের টিকার বিষয়ে বলেন, শিশুদের টিকা কার্যক্রমে কিছুটা দেরি হওয়ার কারণ হলো আমরা এখনও নিবন্ধন তালিকা পাইনি। এ ছাড়া আমাদের টিকা পেতেও একটু সময় লেগেছে। কিছু টিকা আমরা এরই মধ্যে পেয়েছি। এর বাইরে আরও তিন কোটি টিকা আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে পাওয়ার কথা রয়েছে।

তিনি বলেন, নিবন্ধন তালিকা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি। আবারও তাদের সঙ্গে বসব। নিবন্ধনের কার্যক্রমটা যদি তারা তাড়াতাড়ি করতে পারে, আমরাও তাড়াতাড়ি শুরু করে দিতে পারব। নিবন্ধন ছাড়া আমরা টিকা দিতে পারছি না। তবে আশা করছি আগামী মাসেই শিশুদের টিকা কার্যক্রম শুরু করে দিতে পারব।

দেশে আবারও ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। কারণ হলো কিছুদিন আগেই বন্যা হয়েছে, রাজধানীসহ সারাদেশে বৃষ্টি হচ্ছে। যার কারণে এডিস মশা বৃদ্ধি পেয়েছে। ডেঙ্গু মোকাবেলায় আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে, অন্য মন্ত্রণালয়গুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী। কারণ, ঢাকায় মশার উপদ্রব বেশি। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যমতে, দেশে ১৪৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী আছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা শহরেই ১ হাজার ৩০০ জনের মতো রোগী। ঢাকার বাইরে রোগীর সংখ্যা কম। বরাবরই কম ছিল।

জাহিদ মালেক বলেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বছরের শুরু থেকেই পাচ্ছি। যদিও মৃত্যু সেভাবে হয়নি। এখন পর্যন্ত তিনজন মারা গেছেন। একটি মৃত্যুও কাম্য নয়। আমরা দেখছি ডেঙ্গুর পাশাপাশি ম্যালেরিয়াসহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগও বাড়ছে।

করণীয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডেঙ্গু যদি নির্মূল করতে হয়, কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নিচ্ছে, চিকিৎসা দিচ্ছে, প্রচারণাও চালাচ্ছে। আমাদের সঙ্গে অন্য মন্ত্রণালয়গুলো আছে, এলজিআরডিসহ তাদেরও এগিয়ে আসা দরকার। বাসা-বাড়ি পরিষ্কার, ঝোপঝাড়ে নিয়মিত স্প্রে ও মশার উৎপত্তিস্থল যদি বিনষ্ট করা যায় তাহলে ডেঙ্গু কমে আসবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, স্প্রের পাশাপাশি আরও কিছু পদক্ষেপ আমাদের নিতে হবে। জানালায় নেট লাগানো উচিত। বাচ্চাদের জন্য এক ধরনের স্প্রে পাওয়া যায়, সেগুলো দিলে মশা কামড়ায় না সেগুলো ব্যবহার করতে হবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ছাড়াও অন্যান্য স্টেক হোল্ডার আছে, তাদেরও দায়িত্ব আছে। যেখানে ময়লা, পানি জমে থাকবে, যেখানে নর্দমা জমে থাকবে সেখানেই মশা জন্ম নেবে। বাড়ির পাশের জায়গাগুলো পরিষ্কার করতে হবে। সরকার সব করে দেবে এমন নয়। আমাদেরও দায়িত্ব আছে।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ এবিএম খুরশীদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আহমেদুল কবির, পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডাঃ নাজমুল ইসলাম, টিকা কর্মসূচীর পরিচালক ডাঃ শামসুল হক প্রমুখ।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডাঃ মোঃ শামসুল হকের সই করা এক নির্দেশনায় বলা হয়, বুস্টার ডোজের কার্যক্রম জোরদার করার জন্য আগে তৃতীয় ডোজ বা বুস্টার ডোজ সপ্তাহ পালন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার এক দিনে বুস্টার ডোজ দিবস পালিত হবে।

ওই  নির্দেশনায় বলা হয়, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন সমন্বয় কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের সবার সঙ্গে সমন্বয়পূর্বক ব্যাপক প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে বুস্টার ডোজ দিবস পালন করা এবং সকলের প্রাপ্য বুস্টার ডোজ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নির্দেশনায় স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, এই দিবসের আওতায় ১৮ বছর ও তদুর্ধ সকল নাগরিককে তৃতীয় ডোজ বা বুস্টার ডোজ কোভিড ভ্যাকসিন দেয়া হবে। এ জন্য ফাইজারের টিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের ৪ মাস পর বুস্টার ডোজ নেয়া যাবে। বুস্টার ডোজ ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য উপযুক্ত প্রমাণ প্রদর্শন সাপেক্ষে (কোভিড-১৯ টিকার কার্ড বা সনদ) নিকটবর্তী টিকাদান কেন্দ্র বা বাংলাদেশের যে কোন কোডিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন টিকাদান কেন্দ্র থেকে বুস্টার ডোজ গ্রহণ করা যাবে। সকাল ৯টা থেকে ভ্যাকসিন দেয়া শুরু হবে।