৮ উদ্যোগে চাল উৎপাদনে সাফল্য

৮ উদ্যোগে চাল উৎপাদনে সাফল্য

নিউজ ডেস্ক: কৃষিতে বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষিজমি কমতে থাকাসহ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও বৈরী প্রকৃতিতেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদাহরণ। ধান উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয় বাংলাদেশ। গম ও ভুট্টা বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। সবজি উৎপাদনে তৃতীয় আর মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে। বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও দুর্যোগসহিষ্ণু শস্যের জাত উদ্ভাবনেও শীর্ষে বাংলাদেশের নাম। ধান থেকে চাল হয়, চাল থেকে ভাত। ভাত বাঙালির প্রধান খাদ্য। স্বাধীনতার পর দেশে জনসংখ্যা ছিল সাড়ে ৭ কোটি, তখন দেশে খাদ্যসংকট ছিল, আমদানি করে চলতে হতো। এখন দেশের লোকসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি, পাশাপাশি আবাদি জমির পরিমাণ কমেছে প্রতিদিন ২ শতাংশ। আমন, আউশ ও বোরো ধানের বাম্পার ফলনে বছরে প্রায় সাড়ে চার কোটি টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। কৃষির এ সাফল্য সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জলবায়ুর পরিবর্তন, নগরায়ন ও উন্নয়ন কর্মকান্ডে প্রতিদিন কৃষি জমি কমার পরও ধান উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ। মহামারি করোনাকালে ধান উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয় স্থানে উঠেছে বাংলাদেশ। কৃষিতে সরকারের আট উদ্যোগে চাল উৎপাদনে বিশ্বে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। চাল উৎপাদনে বিশ্বে উদাহরণ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। কৃষি গবেষক ও কৃষকের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমে চাল উৎপাদনে বিশ্বে টানা ৪ বছর ধরে তৃতীয় বাংলাদেশ। স্বাধীন হওয়ার পরই বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার। সেখান থেকে স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল রাষ্ট্র। কৃষি গবেষণার মাধ্যমে ফসলের উন্নত জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন, কৃষি-উপকরণে ভর্তুকি প্রদান ও সহজলভ্যকরণ, সারের সুষম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, সেচসুবিধা সম্প্রসারণ, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য টেকসই জলবায়ু সহিষ্ণু কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ফলেই এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়াকে টপকে বাংলাদেশ এবারও বিশ্বের তৃতীয় চাল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে। ২০২২ সালে বাংলাদেশে চাল উৎপাদন বেড়ে ৩ কোটি ৮৪ লাখ টন হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। এ নিয়ে টানা চার বছর বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় স্থান ধরে রেখেছে। চলতি বছর উৎপাদনে শীর্ষে থাকবে চীন। আর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে ভারত। এফএও থেকে প্রকাশিত 'গেস্নাবাল ফুড আউটলুক ২০২২' শীর্ষক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মহামারি করোনা, জলবায়ুর প্রভাব ও টানা কয়েকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেও বাংলাদেশ ২০১৯ সালে ৩ কোটি ৬৫ লাখ টন চাল উৎপাদন করে। ওই বছর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ চাল উৎপাদনে ইন্দোনেশিয়াকে টপকে তৃতীয় স্থানে উঠে আসে। ২০২০ সালে আড়াই মাসব্যাপী ভয়াবহ বন্যা ও নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আবারও তৃতীয় স্থানে থাকে বাংলাদেশ। উৎপাদিত হয় ৩ কোটি ৭৪ লাখ টন চাল। ২০২১ সালেও বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থান ধরে রাখে। গত বছর বাংলাদেশে চাল উৎপাদন বাড়ে ৩ কোটি ৭৮ লাখ টন। চলতি বছর উৎপাদন ৬ লাখ টন বেড়ে ৩ কোটি ৮৪ লাখ টনে দাঁড়াবে। এ হিসাবে গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশে চাল উৎপাদন ১ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়বে। এফএওর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চাল উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধির জন্য মূল ভূমিকা রেখেছে কৃষকের ন্যায্যমূল্য, জলবায়ু সহনশীল লবণাক্ত- খরাসহ বীজ উৎপাদন, কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ও প্রযুক্তির ব্যবহার। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের হিসাবে, বাংলাদেশে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫ কোটি ২৬ লাখ টন ধান উৎপন্ন হয়েছে, যা বিশ্বে চতুর্থ সর্বোচ্চ। চীন ১৪ কোটি ৮৫ লাখ টন উৎপাদন করে প্রথম, আর ভারত ১১ কোটি ৬৪ লাখ টন উৎপাদন করে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চাল উৎপাদনে কয়েক বছরের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় শীর্ষ তিনের মধ্যে থাকছে বাংলাদেশ।